কান্তজীউ মন্দির
বাংলাদেশের সেরা টেরাকোটার মন্দির।
কাহারোল, দিনাজপুর জেলা, রংপুর বিভাগ

দিনাজপুরের মহারাজা প্রাণনাথ ১৭০৪ সালে এই কৃষ্ণমন্দিরের কাজ শুরু করেন, শেষ করেন তাঁর ছেলে রামনাথ, ১৭৫২ সালে। কান্তনগরে ঢেপা নদীর পাশে উঁচু পাথরের ভিতের ওপর তিনতলা মন্দির; বাইরের প্রতিটি দেয়াল নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ছোট ছোট পোড়ামাটির ফলকে মোড়া। শুরুতে এর নয়টি চূড়া ছিল; ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সবগুলো ভেঙে পড়ে, তাই আজ ছাদটা সমতল। দিনাজপুরে মানুষ মূলত এটিই দেখতে আসে, কাজেই হাতে সময় নিয়ে আসুন।
কী দেখবেন
টেরাকোটার দেয়াল
ফলকগুলোতে রামায়ণ, মহাভারত আর কৃষ্ণলীলার কাহিনি, পাশাপাশি সেকালের জীবন: শিকার, নৌকা, শোভাযাত্রা, সৈন্য আর বাদক। প্রতিটি ফলক আলাদা, তাই চার দেয়ালে এক নজর বুলিয়ে না গিয়ে একটি দেয়াল বেছে ধীরে ধীরে পড়ুন।
খিলানওয়ালা বারান্দা
নিচতলার প্রতিটি দিকে খাঁজকাটা খিলান, তার ভেতরে গর্ভগৃহ ঘিরে টানা বারান্দা। বারান্দায় দাঁড়িয়ে খিলানের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকান; স্তম্ভের কারুকাজ দেয়ালের মতোই সূক্ষ্ম।
গর্ভগৃহ
মন্দিরে এখনো নিয়মিত পূজা হয়; ভেতরের ঘরে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ। কাছে যাওয়ার বা ছবি তোলার আগে জিজ্ঞেস করে নিন।
আঙিনা থেকে পুরো মন্দির
প্রাচীরঘেরা আঙিনার কোণ থেকে বোঝা যায় তিনটি তলা কীভাবে ধাপে ধাপে ছোট হয়ে ওপরে উঠেছে। পুরো মন্দিরের ছবি তোলার জায়গা এটিই।
কীভাবে ঘুরবেন
প্রথমে আঙিনার এক কোণ থেকে পুরো মন্দিরটা দেখুন, তারপর বাইরে দিয়ে এক পাক ঘুরুন; ফলক পড়ুন নিচের সারি থেকে ওপরের দিকে। এরপর ভিতের ওপর উঠে বারান্দা ধরে হাঁটুন, শেষে গর্ভগৃহ। ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা রাখুন; কারুকাজে মন বসে গেলে আরও বেশি।
যেভাবে উপভোগ করবেন
- ভোরের দিকে বা শেষ বিকেলে আসুন: তির্যক আলোয় ফলকের নকশা স্পষ্ট ফুটে ওঠে, ভিড়ও কম থাকে।
- প্রায় ১.৫ কিমি দূরের নয়াবাদ মসজিদ ঘুরে আসুন; বলা হয়, এই মন্দিরের কারিগরেরাই সেটি গড়েছিলেন।
- কার্তিক পূর্ণিমায়, সাধারণত নভেম্বরে, এখানে প্রায় মাসব্যাপী রাসমেলা শুরু হয়। তখন সবচেয়ে জমজমাট, ভিড়ও সবচেয়ে বেশি।
খরচ
বিনামূল্যে
যেভাবে পৌঁছাবেন
দিনাজপুর শহরের উত্তরে, ঠাকুরগাঁওগামী মহাসড়কে; কান্তনগরে নেমে ঢেপা নদী পার হলেই মন্দির। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়গামী বাস মোড়টা হয়ে যায়; নয়তো শহর থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি রিজার্ভ করে নিন।
যা জেনে যাবেন
- ভিতের ওপর ওঠার আগে জুতা খুলুন, ফলকে হাত দেবেন না।
ঢাকা থেকে দিনাজপুর কীভাবে যাবেন
- বাসে
- গাবতলী বা কল্যাণপুর থেকে
- ট্রেনে
- কমলাপুর থেকে একতা, দ্রুতযান বা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস
- বিমানে
- সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে, সেখান থেকে সড়কপথে
কোথায় থাকবেন
পর্যটন মোটেল, দিনাজপুর