দীপশিখা মেটি স্কুল (রুদ্রপুর)
মাটি আর বাঁশ দিয়ে হাতে গড়া এক গ্রামের স্কুল।
বিরল, দিনাজপুর জেলা, রংপুর বিভাগ

রুদ্রপুর গ্রামে বেসরকারি সংস্থা দীপশিখা তাদের METI (মডার্ন এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) কর্মসূচির অধীনে এই স্কুল চালায়। দোতলা ভবনটির নকশা স্থপতি আনা হেরিঙ্গার ও আইকে রোজওয়াগের; গ্রামেরই মাটি আর বাঁশ দিয়ে স্থানীয় কারিগর, শিক্ষক আর শিক্ষার্থীরা মিলে এটি বানিয়েছেন। ২০০৭ সালে ভবনটি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পায়, সারা দুনিয়ার স্থপতিরা একে চেনেন। তবে রওনা দেওয়ার আগে পরিষ্কার জেনে নিন এটি কী: শান্ত এক গ্রামের ছোট, চালু প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোনো পর্যটনকেন্দ্র নয়। টিকিট, গাইড বা প্রদর্শনী কিছুই নেই, এক ঘণ্টারও কম সময়ে দেখা হয়ে যায়। তাই এটি আলাদা ট্যুরের গন্তব্য নয়, দিনাজপুর ঘোরার দিনে যোগ করে নেওয়ার মতো একটি জায়গা।
কী দেখবেন
স্কুল ভবন
নিচতলায় খড় মেশানো মাটির পুরু দেয়াল, ওপরতলায় বাঁশের হালকা কাঠামো। খেয়াল করুন দুটো তলার অনুভূতি কত আলাদা: নিচে ভারী আর ঠান্ডা, ওপরে খোলা আর আলোয় ভরা; সঙ্গে উজ্জ্বল রঙের দরজা আর কাপড়।
শ্রেণিকক্ষের পেছনের 'গুহা'
নিচতলার শ্রেণিকক্ষের পেছনে মাটি দিয়ে গড়া ছোট ছোট গোলাকার খোপ; শিশুরা সেখানে ঢুকে পড়ে বা একা বসে থাকে। ভবনের এই অংশটাই মানুষের সবচেয়ে মনে থাকে।
DESI ভবন
একই চত্বরে, একই মাটি-বাঁশের রীতিতে পরে তৈরি ভবন; দীপশিখার ইলেকট্রিশিয়ান প্রশিক্ষণের জন্য বানানো।
আনন্দালয়
সবচেয়ে নতুন ভবন, এটিও আনা হেরিঙ্গারের নকশা; বাঁকানো মাটির দেয়াল আর তাকে ঘিরে ওঠা লম্বা ঢালু পথ। এখানে প্রতিবন্ধী মানুষের থেরাপি কেন্দ্র আর একটি বস্ত্র কর্মশালা আছে; ২০২০ সালে ভবনটি ওবেল পুরস্কার পায়।
কীভাবে ঘুরবেন
প্রথমেই অফিসে গিয়ে কেন এসেছেন জানান এবং ঘুরে দেখার অনুমতি নিন; কোথায় কোথায় যেতে পারবেন তা স্কুল কর্তৃপক্ষই ঠিক করবে, আর ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে পারবেন বলে ধরে নেবেন না। এরপর স্কুল ভবনের চারপাশ ঘুরে দেখুন, অনুমতি পেলে ভেতরে ও ওপরতলায় যান, ফেরার আগে DESI ভবন আর আনন্দালয় দেখে নিন। ৪৫ মিনিটই যথেষ্ট।
যেভাবে উপভোগ করবেন
- ভেতরটা দেখা নিশ্চিত করতে চাইলে যাওয়ার আগে দীপশিখার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিন।
- রুদ্রপুর গ্রামেও খানিক হাঁটুন: গ্রামের নিজস্ব মাটির ঘরগুলো থেকেই এই স্কুলের ভাবনা এসেছে।
- দিনাজপুর রাজবাড়ি আর কান্তজীউ মন্দিরের সঙ্গে একই দিনে দেখুন, তাহলে আসাটা সার্থক হবে।
যেভাবে পৌঁছাবেন
দিনাজপুর শহর থেকে বিরলের রাস্তা ধরে যেতে হয়। অটোরিকশা বা সিএনজি যাওয়া-আসা মিলিয়ে রিজার্ভ করে নিন; ফেরার সময় গ্রামে গাড়ি না-ও পেতে পারেন।
যা জেনে যাবেন
- অনুমতি ছাড়া শিশুদের ছবি তুলবেন না, ক্লাসে ব্যাঘাত ঘটাবেন না।
- গ্রামে হোটেল বা রেস্তোরাঁ পাবেন বলে ধরে নেবেন না; খাওয়া ও থাকা দিনাজপুর শহরে।
ঢাকা থেকে দিনাজপুর কীভাবে যাবেন
- বাসে
- গাবতলী বা কল্যাণপুর থেকে
- ট্রেনে
- কমলাপুর থেকে একতা, দ্রুতযান বা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস
- বিমানে
- সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে, সেখান থেকে সড়কপথে
কোথায় থাকবেন
পর্যটন মোটেল, দিনাজপুর